আমাদের গল্প
আমরা কারা?
BFCPD একটি কৃষক সমবায় সংগঠন। আমরা কৃষকদের জীবনমান উন্নয়ন এবং বিভিন্ন সামাজিক সমস্যা ও জটিলতা সমাধানের জন্য দায়বদ্ধ। আমরা একটি সুশীল সমাজ ও জাতি গঠনে কাজ করি। আমাদের লক্ষ্য একটি সচেতন, শিক্ষিত এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর গ্রামীণ সমাজ গঠন করা। এছাড়াও, আমরা যে বিষয়গুলিকে সমাজে অগ্রাধিকার দিই তা হলো নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, শিশুশ্রম প্রতিরোধ, মহিলাদের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ১০০% শিক্ষিত সমাজ গঠন।
আমাদের ৩টি মূল অঙ্গীকার
অর্থনৈতিক শৃঙ্খলমুক্তি
কৃষকের হাড়ভাঙা খাটুনির মুনাফা কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেটের পেটে যেতে দেওয়া হবে না। ন্যায্য মূল্য প্রাপ্তি আমরা নিশ্চিত করব।
সামাজিক মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা
কৃষক দয়ার পাত্র নন—তারা এই দেশের চালিকাশক্তি, আসল বীর। সমাজে তাদের অবস্থান শীর্ষে উন্নীত করাই আমাদের লড়াই।
টেকসই ও সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ
আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, জ্ঞান ও সমবায় শক্তির মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি স্বাবলম্বী কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
আমাদের লক্ষ্যসমূহ
অর্থনৈতিকভাবে স্বয়ংসম্পূর্ণ গোষ্ঠী
আমাদের সমাজে অনেক মানুষ রয়েছে যারা আর্থিকভাবে অসচ্ছল। আমরা তাদের পরামর্শ ও সহায়তা দিয়ে স্বাবলম্বী করি।
নারী কর্মসংস্থান তৈরি
মেধাবী নারীদের কুটির শিল্প বা বুটিক শিল্পের প্রশিক্ষণ দিয়ে আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধিতে কাজ করি।
১০০% শিক্ষিত সমাজ প্রতিষ্ঠা
পিছিয়ে পড়া পরিবারের সন্তানদের শিক্ষার দায়িত্ব নিই এবং মানসম্মত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা নিশ্চিত করি।
শিশু শ্রম ও বাল্য বিবাহ বন্ধ
ঝুঁকিপূর্ণ কাজ থেকে শিশুদের স্কুলমুখী করা এবং নারীদের প্রতি সহিংসতা ও বাল্য বিবাহ বন্ধে সোচ্চার ভূমিকা পালন।
আমাদের শুরুর গল্প
আবছা অন্ধকারে চায়ের কাপে চুমুক আর মুড়ির বাটিতে হাত ডুবিয়ে সেদিন যে আড্ডার শুরু হয়েছিল, তা নিছক কোনো সাধারণ গদ্যময় রাতের ফুর্তি ছিল না; সে ছিল কটা তরুণের চোখে এক অচেনা ঝড়ের পূর্বভাস। বন্ধুরা মিলে যখন হিসাব মেলাচ্ছিলাম—যে মাটি আমাদের বাবা-দাদাদের সারা জীবনের ঘাম শুষে সোনা ফলালো, সেই মাটির সন্তান হয়েও আমরা আজ অদ্ভুত এক চক্রের বন্দি। রক্ত জল করা পরিশ্রমে ফলানো ফসল নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করে তারা খালি হাতে বাড়ি ফেরেন, আর সেই একই সবজি বা ধান যখন বহু হাত ঘুরে শহরের বাজারে আসে, তখন চড়া দামে কিনে আমাদেরই তা থালায় তুলতে হয়। শহরের আলোয় পড়াশোনা করার বিলাসিতাও আসে সেই ঘামেরই ফোঁটা বেচে।
এই বৈষম্য আমাদের ভেতর এক গভীর নাড়া দিল। গ্রামের শেকড় থেকে উঠে আসা প্রাণগুলো তো কেবল দীর্ঘশ্বাস ফেলতে জানে না, তারা নতুন পথ গড়তেও জানে।
সিদ্ধান্তটা সেদিনই পাকা হলো। শুধু আড্ডার খোরাক বা ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এ ক্ষোভ জমানোর বয়স সেটা ছিল না। আমরা ঠিক করলাম, এই চক্রকে ভাঙতেই হবে। কৃষকের ঘামের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে এবং শহরের সাথে গ্রামের মধ্যস্বত্বভোগীদের দেওয়াল গুঁড়িয়ে দিতে জন্ম নেবে আমাদের স্বপ্নের প্ল্যাটফর্ম—BFCPD (Bangladesh Farmers Cooperative Production Development)।
আজ সেই রাতের ভাবনা আর কল্পনায় সীমাবদ্ধ নেই। BFCPD আজ কেবল একটা নাম নয়, এ হলো গ্রামের প্রতিটি কৃষকের মুখে হাসি ফোটানোর এক অদম্য আন্দোলন। আমাদের এই সংস্থা সরাসরি মাঠ থেকে কৃষকের ন্যায্যমূল্যে ফসল সংগ্রহ করে কোনো মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই পৌঁছে দিচ্ছে শহুরে রান্নাঘরে। এর মাধ্যমে কৃষক যেমন তার ফসলের আসল সম্মান ও দাম ফিরে পাচ্ছে, তেমনি শহরের মানুষও পাচ্ছে বিষমুক্ত ও সাশ্রয়ী মূল্যের খাবার।
যে বাবাদের কপালে গভীর দুশ্চিন্তার ভাঁজ আমরা সেদিন দেখেছিলাম, আজ তাদের চোখে দেখতে পাই গর্বের দীপ্তি। আমাদের এই ছোট্ট প্রয়াস আজ ধীরে ধীরে এক বিশাল গণমানুষের আন্দোলনে রূপ নিয়েছে—যেখানে গ্রাম আর শহরের ব্যবধান ঘুচে গিয়ে তৈরি হয়েছে আত্মনির্ভরশীলতার এক নতুন সেতুবন্ধন। মুড়ির আড্ডায় বোনা সেই ছোট্ট স্বপ্নটা আজ ডানা মেলে উড়ছে সারা বাংলায়।