FAQ

সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্নাবলী (FAQ)

BFCPD-এর কার্যক্রম, লক্ষ্য, প্রোগ্রাম এবং সেবা সম্পর্কে আপনার যেকোনো প্রশ্নের উত্তর এখানে জেনে নিন।

BFCPD কোনো সাধারণ দাতব্য সংস্থা বা এনজিও নয়; এটি কৃষকদের ওপর হওয়া ঐতিহাসিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি সংগঠিত প্রতিবাদ এবং সামাজিক পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার। আমরা সমবায়ভিত্তিক কাঠামোর মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে সরাসরি কাজ করি, যাতে কৃষকরা তাদের অধিকার ও ন্যায্য পাওনা আদায় করতে পারেন।
কৃষকদের সুরক্ষায় আমাদের প্রধান প্রোগ্রাম হলো "কৃষকের ন্যায্য মূল্য সুনিশ্চিতকরণ"। ফড়িয়া ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য এবং শোষণমূলক ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে কৃষকের উৎপাদিত ফসলের সরাসরি প্রিমিয়াম বা ন্যায্য মূল্য তাদের হাতে পৌঁছে দেওয়া আমাদের কাজের একটি বড় অংশ।
ঐতিহ্যবাহী ও সনাতন চাষাবাদের সীমাবদ্ধতা ভেঙে কৃষিকে আধুনিকায়ন করা আমাদের অন্যতম বড় লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবে বিজ্ঞানসম্মত ল্যাব টেস্ট, আধুনিক প্রযুক্তি এবং সঠিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সাধারণ কৃষকদের দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল "কৃষি-উদ্যোক্তা" হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।
গ্রামীণ নারীদের কেবল ঘরের কোণে সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন করার জন্য আমাদের সুনির্দিষ্ট প্রোগ্রাম রয়েছে। বুটিক শিল্প, ক্ষুদ্র কুটির শিল্প এবং বিভিন্ন হাতের কাজের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের অন্তর্নিহিত শক্তির জাগরণ ঘটিয়ে তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলা আমাদের পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।
সমাজ থেকে বাল্যবিবাহ, নারীর প্রতি সহিংসতা এবং শিশুশ্রম নির্মূলে আমাদের অবস্থান শূন্য-সহনশীল (Zero Tolerance)। আমরা শুধু সভা-সেমিনারে বা কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ না থেকে মাঠপর্যায়ে সরাসরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এসব সামাজিক অপরাধ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তুলি।
একেবারেই না। সমাজের দুর্দশাগ্রস্ত বা প্রান্তিক মানুষগুলোকে আমরা কখনোই 'দান বা করুণার পাত্র' মনে করি না। এটিকে আমরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ও মৌলিক অঙ্গীকার হিসেবে দেখি, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিকের একটি মর্যাদাপূর্ণ ও উন্নত জীবন নিশ্চিত করা আমাদের লক্ষ্য।
একটি জাতিকে উন্নতির শিখরে পৌঁছাতে হলে প্রাতিষ্ঠানিক ও বইয়ের জ্ঞানের বিকল্প নেই। তাই শতভাগ শিক্ষিত ও সচেতন সমাজ গঠনে যুবসমাজ ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম এবং সচেতনতামূলক উদ্যোগ পরিচালনা করে আসছে BFCPD।
বাজারে নিত্যপণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং মধ্যস্বত্বভোগী বা সিন্ডিকেটের কারসাজির বিরুদ্ধে আমাদের গবেষণা ও জোরালো অবস্থান রয়েছে। সাধারণ ভোক্তা ও উৎপাদক—উভয়ের স্বার্থ রক্ষায় অসামঞ্জস্যপূর্ণ বাজার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরি করাই আমাদের অন্যতম কাজ।
গ্রামের সাধারণ কৃষক, তরুণ শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তারা আমাদের বিভিন্ন কার্যক্রমে সরাসরি অংশ নিতে পারেন। আমাদের সাথে যুক্ত হতে আপনারা সরাসরি আমাদের অফিস ঠিকানায় যোগাযোগ করতে পারেন অথবা আমাদের অফিশিয়াল যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ব্যবহার করতে পারেন।
আমাদের কাজের মূল প্রেরণা এবং স্লোগান হলো—
“যে হাত অন্ন জোগায়, সেই হাতই দেশের আসল শক্তি। কৃষক হাসলে, নারী জাগলে—তবেই হাসবে বাংলাদেশ।”